কম্পিউটার গ্রাফিক্স :

কম্পিউটার গ্রাফিক্স হচ্ছে কম্পিউটার স্ক্রিনে কোন কিছু আঁকাকে বুঝায়। কম্পিউটার গ্রাফিক্সের আভিধানিক অর্থ আপনি যদি কোনো পেপারে কোন কিছু আঁকেন (যেমন কোনো মানুষের ছবি বা ঘরের ছবি) তাহলে সেটা হবে একটি এ্যানালগ ইনফরমেশন, আর একই জিনিস যদি আপনি কম্পিউটার স্ক্রিনে নিয়ে আসেন তখনই সেটা হয়ে যাবে একটি ডিজিটাল ইনফরমেশন — আর সেটাই হচ্ছে কম্পিউটার গ্রাফিক্স।

এ্যানালগ ইনফরমেশন বা কাগজে কলমে কোনো কিছু আঁকলে পরবর্তীতে সেটা পরিবর্তন করা বেশ ঝামেলার কাজ। যেমন আপনি যদি আপনার হাই সিক্রেট সাইন্স প্রজেক্টের কার্যাবলির খসড়া যদি কোনো পেপারে আঁকতে যান তাহলে হয়তো পেন্সিল দিয়ে আপনি আঁকতে পারেন, পরবর্তীতে ভূল হলে রাবার দিয়ে সেটা মুছে দিলেন। কিন্তু যারা পেন্সিল ব্যবহার করেন না বা যেসকল জায়গায় পেন্সিলের আঁকা ছবি গ্রহণযোগ্য হয় না সেক্ষেত্রে একটু ছোটখাট ভূল হলেই পুনরায় নতুন করে আঁকতে হয়। আবার আপনি যদি তৈলচিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রজেক্ট আঁকলেন কিন্তু শেষে গিয়ে যদি প্রয়োজনে কোনো রং কে পরিবর্তন করতে হয় তখন কি করবেন? আবারো সেই প্রথম থেকেই শুরু করতে হয়।

কিন্তু কম্পিউটার গ্রাফিক্সে এই সকল ঝামেলা নেই। সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে জানলে কম্পিউটার গ্রাফিক্সে আঁকা যেকোনো কিছুর প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পরবর্তীতে পরিবর্তন করা যায়। তাই বর্তমানে ইতিমধ্যেই আর্স্টিট, ডিজাইনার এবং আর্কিটেকচাররা তাদের প্রজেক্টগুলোকে কম্পিউটারের সাহায্যে সুবিধাজনক উপায়ে তৈরি করে নিতে পারছেন।

কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রকারভেদ :

সকল কম্পিউটার আর্ট হচ্ছে ডিজিটাল। তবে একটি কম্পিউটার স্ক্রিণে ডিজিটাল ইমেজ আঁকার দুটি পদ্ধতি বা উপায় রয়েছে। একটি হচ্ছে — রাস্টার গ্রাফিক্স (Raster Graphics) এবং অপরটি হচ্ছে ভেক্টর গ্রাফিক্স (Vector Graphics)। সাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্স প্রোগ্রামগুলো যেমন মাইক্রোসফট পেইন্ট (Microsoft Paint) এবং পেইন্টশপ প্রো (PaintShop Pro) হচ্ছে রাস্টার গ্রাফিক্সের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এই প্রোগ্রামগুলো এই রাস্টার গ্রাফিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে আরো উচ্চমানে কম্পিউটার গ্রাফিক্স প্রোগ্রাম যেমনঃ কোরেল ড্র (CorelDRAW), অটো ক্যাড (AutoCAD), এবং অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর (Adobe Illustrator) — এরা ভেক্টর গ্রাফিক্স ব্যবহার করে থাকে।