যেকোন জায়গায় চাকরির জন্য সিভি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারন প্রথমে একজন মানুষ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওই কাজের জন্য কতোটা উপযুক্ত তা প্রাথমিক ভাবে বলে দেয় প্রার্থীর সিভি। তাই সিভি হওয়া চাই আকর্ষণীয় এবং অভিজ্ঞতায় পূর্ণ।

তবে চাকরির জন্য সিভি কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা সবাই জানলেও সিভি তৈরির বিষয়ে অনেকেরই গুরুত্ব থাকে না। হয়তো কোন বড় ভাই বা বন্ধুর কাছ থেকে একটি সিভির কপি নিয়ে সেখানে নিজের তথ্যটি শুধুমাত্র পরিবর্তন করে সব জায়গায় জমা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় ফটোকপির দোকান থেকে বানিয়ে নেয়া সিভি, যা আরও বেশি ভয়ঙ্কর ব্যাপার।

এমন সিভি জমা দিয়েও আসলে কোন লাভ হয় না। সিভি হওয়া উচিত ইউনিক, অভিজ্ঞতা এবং পারদর্শিতা বা দক্ষতা ওরিয়েন্টেড। তাহলে সিভির ফরমেট কেমন হওয়া চাই? চলুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক-

১.

সিভি হওয়া উচিত মাত্র ২ পেজের। সিভি কত পেজের হবে তা বলে দেবে আপনার পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা ও অ্যাচিভমেন্টসগুলো।

যদি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা থাকে। কর্মক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কোন বিশেষ সম্মাণনা পুরষ্কার বা যেকোন বিশেষ অর্জন হতে পারে। এছাড়াও আপনার স্কিল বা পারদর্শিতার তালিকা বেশির ভাগ জায়গা নিয়ে থাকবে।

২.

সিভির ফন্ট সাইজ হতে পারে Times New Roman, Arial বা অন্য যেকোন অফিসিয়াল ফন্ট। এছাড়াও ফন্ট সাইজ ১১/১২ রাখা উচিত।

অনেক সময় সিভিতে বিভিন্ন ধরনের ফন্টের ব্যবহার দেখা যায়। যা কখনোই করা উচিত নয়। আসলে সিভিতে কতোটা স্টাইলিশ ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে সেটা কোন মূখ্য নয়, সিভিটা কতো বেশি সমৃদ্ধ সেটাই মূখ্য।

৩.

সিভিতে শুরুতেই ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে পূর্ণ করে দেয়া উচিত নয়। সিভিতে ব্যক্তিগত তথ্যের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো- কোয়ালিফিকেশনস ও কাজের অভিজ্ঞতা।

তবে সিভির শুরুতেই নিজের নাম, ইমেইল ও ফোন নাম্বার দিয়ে দেয়া উচিত।

৪.

সিভিতে ছবি থাকবে কি থাকবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক্ষেত্রে অধিকাংশরাই সিভিতে পাসপোর্ট সাইজ ছবি সিভিতে দিয়ে থাকেন। তবে ছবি সিভির ডান পাশে উপরে স্টাপল করে দিতে হবে।

ছবি যেহেতু একজন মানুষের প্রথম ইমপ্রেশন বহন করে তাই অনেকেই ছবি না দেয়াকেই বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করেন। তবে চাইলে অবশ্যই ছবি দেয়া যায়- এতো কোন সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে ছবি অবশ্যই ফরমাল হওয়া চাই। কখনোই ইনফরমাল কোন ছবি সিভিতে দেয়া উচিত নয়।

৫.

সিভির প্রথমেই আশা উচিত আপনার কাজের অভিজ্ঞতাগুলো। আর কাজের অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরার সময় অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, কত দিন কাজ করেছেন তার পাশাপাশি প্রাধান্যতা দেয়া উচিত আপনি সেখানে কি কাজ করতেন বা আপনার ডিউটিস গুলো সেখানে কি ছিল তা।

সিভিতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজের পাশাপাশি সেই প্রতিষ্ঠানে যদি কোন বিশেষ অ্যাচিভমেন্টস থাকে তবে তা অবশ্যই সংযুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে আরেকটি সম্পর্কিত বিষয় হলো- আপনি যে কোম্পানীর যে পোস্টে অ্যাপ্লাই করার জন্য সিভিটি তৈরি করছেন সে জবের সাথে পূর্বেরটি কতোটা সম্পর্কিত! সেই অনুযায়ী কাজের অভিজ্ঞতাগুলোকে ফোকাস করা।

৬.

সিভিতে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো- আপনার একাডেমিক কোয়ালিফিকেশনস্। সিভিতে আপনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো উল্লেখ কতে হবে। এক্ষেত্র আলাদা একটি বক্স করে দেখানো যেতে পারে।

যাদের ওয়ার্ক এক্সপেরিয়ান্স বা চাকরির অভিজ্ঞতা নেই তাদের জন্য এই অংশটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৭.

সিভিতে সুন্দর ভাবে নিজের স্কিলগুলোকে তুলো ধরতে হবে। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার স্কিল হতে পারে, ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিল হতে পারে। যদি ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট দেয়া থাকে তা সংযুক্ত করা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি ওই জবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বা প্রভাবিত করবে মনে হলে অন্যান্য স্কিলগুলোকেও অ্যাড করা যেতে পারে। যেমন, কেউ লেখালেখিতে পারদর্শি হলে স্কিলের মধ্যে তা সংযুক্ত করা যেতে পারে এবং যদি কোথাও তার লেখা প্রকাশিত হয় তাও উল্লেখ করা যেতে পারে।

৮.

সিভির শেষের দিকে আসতে পারে, নিজের ব্যক্তিগত তথ্যগুলো। এক্ষেত্রে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা, ব্লাড গ্রুপ থেকে শুরু করে কোন ধর্মের অনুসারী এই সকল বিষয় সাধারণ যুক্ত করা হয়। তবে এখানে অপ্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে বরং যে তথ্যগুলো না দিলেই নয় সেগুলো দেয়া উচিত।

যেমন, সিভিতে বাবা/মায়ের নাম জরুরী নয়। এছাড়াও আপনি কোন ধর্মের অনুসারী তাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে আসতে পারে নাম, ঠিকানা (যেখানে আপনি বর্তমানে আছেন বা পাওয়া যাবে), ব্লাড গ্রুপ (দেয়া যেতে পারে তবে জরুরী নয়), ফোন নাম্বার, ইমেইল অ্যড্রেস, লিংকড-ইন আইডি ইত্যাদি।

৯.

সিভিতে অনেক বেশি রংয়ের ব্যবহার করা নিষ্প্রয়োজনীয়। সিভিতে অনেক ফরমেটের ব্যবহার কিংবা খুব সুন্দর করে রঙ্গিন রঙ্গিন টেবিল ব্যবহার করলেই স্মার্ট সিভি হবে না।

তাই সিভিকে সিম্পল এবং সহজ ফরমেটে রাখতে হবে। যে টপিক সম্পর্কে জানাতে চান উপরে তার শিরোনাম দিন এবং নিচে নিজের অর্জন বা অভিজ্ঞতাগুলো। সিভি অতিরঞ্জিত মনে হলে তা পূর্বেই একটি বাজে ইমপ্রেশন তৈরি করে। অনেক সময় প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের জন্যও ডাক পাওয়া যায় না।

১০.

সিভিতে কোন ধরনের বানানের ভুল, গ্রামারের ভুল কিংবা অন্য যেকোন ভুল যাতে না থাকে।

একটি সিভি সর্বত্র না পাঠিয়ে আলাদা আলাদা কোম্পানীর জন্য ভিন্ন-ভিন্ন সিভি তৈরি করে তা পাঠানো উচিত এবং নিজের কাজের অভিজ্ঞতা এবং পারদর্শিতাগুলোকে তখন সেভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা উচিত।

পরিশেষে, এই বিষয়গুলো অনুসরণ করে নিজেই একটি ডক ফাইলে লেখা শুরু করুন দেখবেন ফরমেট তৈরি হয়ে গেছে। এরপরও ফরমেটের প্রয়োজন হলে গুগল থেকে যেকোন ফ্রি সিভি টেমপ্লেট দেখে নিয়ে তা নিজের মতো করে এডিট করে নিতে পারেন।